দশটি পোরুথম
দিন পাত্রীর নক্ষত্র থেকে পাত্রের নক্ষত্র গোনে আর নয়টি তারা পড়ে। গণ স্বভাব মেলায়: দেব, মনুষ্য বা রাক্ষস। মাহেন্দ্র মেলে যখন গণনা ৪, ৭, ১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২ বা ২৫। স্ত্রী দীর্ঘ চায় পাত্রের নক্ষত্র পাত্রীর থেকে অনেক এগিয়ে থাকুক, ১৩ গণনার বেশি। যোনি প্রতিটি নক্ষত্রের পশু মেলায়।
রাশি দুই চন্দ্র রাশির দূরত্ব পড়ে। রাশি অধিপতি জানতে চায় তাদের অধিপতিরা মিত্র কি না। বশ্য জানতে চায় একটি রাশি অন্যটিকে নিজের প্রভাবে রাখে কি না। রজ্জু ২৭টি নক্ষত্রকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পাঁচটি দলে ভাগ করে। বেধ সেই নক্ষত্র জোড়াগুলোর নাম দেয় যারা একে অপরকে পীড়া দেয়।
রজ্জু আর বেধ নিষেধক
দুটি নক্ষত্রই একই রজ্জুতে পড়লে রজ্জু দোষ, আর প্রতিটি রজ্জুর নিজস্ব দুশ্চিন্তা: মাথা স্বামীর আয়ুর জন্য, গলা স্ত্রীর আয়ুর জন্য, নাভি সন্তানের জন্য, কোমর সমৃদ্ধির জন্য, পা বিচ্ছেদের জন্য। দুটি নক্ষত্র বেধ জোড়া হলে বেধ দোষ। ঐতিহ্য অনুযায়ী এর যেকোনো একটিই মিল শেষ করে দেয়, বাকি যত পোরুথমই মিলুক, তাই ক্যালকুলেটর গণনাকে কখনো এদের ওপরে উঠতে দেয় না।
কতগুলো পোরুথম মেলা দরকার?
রজ্জু আর বেধ পরিষ্কার থাকলে সাত বা তার বেশি মিল উত্তমম, অর্থাৎ চমৎকার। পাঁচ বা ছয় মধ্যমম, সাধারণ সীমা। পাঁচের কম অধমম, আর বেশিরভাগ পরিবার এগোয় না। আংশিক মিল, যেমন ৭ আর ১৩-র মধ্যে স্ত্রী দীর্ঘ, অর্ধেক ধরা হয়। অনেক পঞ্জিকা আলাদা করে সেই পাঁচটির কথাও বলে যেগুলো মেলা উচিত: দিন, গণ, যোনি, রাশি আর রজ্জু, আর ফলাফল সেগুলো আলাদা দেখায়।
পোরুথম আর গুণ মিলান
দুই পদ্ধতির কাঁচামাল এক: জন্ম নক্ষত্র, তাদের গণ আর যোনি, চন্দ্র রাশি আর তাদের অধিপতি। এই ক্যালকুলেটর সেগুলো আমাদের ৩৬ গুণ মিলান ক্যালকুলেটরের একই সারণি থেকে পড়ে, তাই রাশি পোরুথম আর ভকূট সবসময় একমত হয়। যেখানে তামিল আর উত্তর ভারতীয় প্রথা সত্যিই আলাদা, সেখানে ফলাফল জানায় কোন নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে।
পাঁচটি রজ্জু আর তাদের নক্ষত্র
পাদ (পা) রজ্জু: অশ্বিনী, অশ্লেষা, মঘা, জ্যেষ্ঠা, মূলা আর রেবতী। কটি (কোমর) রজ্জু: ভরণী, পুষ্যা, পূর্বফাল্গুনী, অনুরাধা, পূর্বাষাঢ়া আর উত্তরভাদ্রপদ। নাভি রজ্জু: কৃত্তিকা, পুনর্বসু, উত্তরফাল্গুনী, বিশাখা, উত্তরাষাঢ়া আর পূর্বভাদ্রপদ। কণ্ঠ (গলা) রজ্জু: রোহিণী, আর্দ্রা, হস্তা, স্বাতী, শ্রবণা আর শতভিষা। শিরো (মাথা) রজ্জু: মৃগশিরা, চিত্রা আর ধনিষ্ঠা।
পাত্রী আর পাত্রের নক্ষত্র একই দলে পড়লে রজ্জু দোষ। মাথার রজ্জুতে মাত্র তিনটি নক্ষত্র, তাই তাতে মেলা সবচেয়ে বিরল, আর পঞ্জিকা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এটাকেই।