দশ পোরুথম

১০ পোরুথম ক্যালকুলেটর: নক্ষত্র দিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় বিয়ের মিল

তামিল, তেলুগু, মালয়ালম আর কন্নড় পরিবার কুষ্ঠি ৩৬ নম্বরে নয়, দশটি পোরুথমে মেলায়। জাতকমে ছাপা পাত্রী আর পাত্রের জন্ম নক্ষত্র ও পাদ বেছে নিন, ক্যালকুলেটর দশটিই যাচাই করবে, রজ্জু আর বেধকে তারা যা, সেই নিষেধক হিসেবেই ধরে।

দুজনের তথ্য দিন

পোরুথম পাত্রীর নক্ষত্র থেকে পাত্রের নক্ষত্র পর্যন্ত গোনা হয়, তাই প্রত্যেকের তথ্য ঠিক ঘরে দিন।

পাত্র
পাত্রী

দশটি পোরুথম

দিন পাত্রীর নক্ষত্র থেকে পাত্রের নক্ষত্র গোনে আর নয়টি তারা পড়ে। গণ স্বভাব মেলায়: দেব, মনুষ্য বা রাক্ষস। মাহেন্দ্র মেলে যখন গণনা ৪, ৭, ১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২ বা ২৫। স্ত্রী দীর্ঘ চায় পাত্রের নক্ষত্র পাত্রীর থেকে অনেক এগিয়ে থাকুক, ১৩ গণনার বেশি। যোনি প্রতিটি নক্ষত্রের পশু মেলায়।

রাশি দুই চন্দ্র রাশির দূরত্ব পড়ে। রাশি অধিপতি জানতে চায় তাদের অধিপতিরা মিত্র কি না। বশ্য জানতে চায় একটি রাশি অন্যটিকে নিজের প্রভাবে রাখে কি না। রজ্জু ২৭টি নক্ষত্রকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পাঁচটি দলে ভাগ করে। বেধ সেই নক্ষত্র জোড়াগুলোর নাম দেয় যারা একে অপরকে পীড়া দেয়।

রজ্জু আর বেধ নিষেধক

দুটি নক্ষত্রই একই রজ্জুতে পড়লে রজ্জু দোষ, আর প্রতিটি রজ্জুর নিজস্ব দুশ্চিন্তা: মাথা স্বামীর আয়ুর জন্য, গলা স্ত্রীর আয়ুর জন্য, নাভি সন্তানের জন্য, কোমর সমৃদ্ধির জন্য, পা বিচ্ছেদের জন্য। দুটি নক্ষত্র বেধ জোড়া হলে বেধ দোষ। ঐতিহ্য অনুযায়ী এর যেকোনো একটিই মিল শেষ করে দেয়, বাকি যত পোরুথমই মিলুক, তাই ক্যালকুলেটর গণনাকে কখনো এদের ওপরে উঠতে দেয় না।

কতগুলো পোরুথম মেলা দরকার?

রজ্জু আর বেধ পরিষ্কার থাকলে সাত বা তার বেশি মিল উত্তমম, অর্থাৎ চমৎকার। পাঁচ বা ছয় মধ্যমম, সাধারণ সীমা। পাঁচের কম অধমম, আর বেশিরভাগ পরিবার এগোয় না। আংশিক মিল, যেমন ৭ আর ১৩-র মধ্যে স্ত্রী দীর্ঘ, অর্ধেক ধরা হয়। অনেক পঞ্জিকা আলাদা করে সেই পাঁচটির কথাও বলে যেগুলো মেলা উচিত: দিন, গণ, যোনি, রাশি আর রজ্জু, আর ফলাফল সেগুলো আলাদা দেখায়।

পোরুথম আর গুণ মিলান

দুই পদ্ধতির কাঁচামাল এক: জন্ম নক্ষত্র, তাদের গণ আর যোনি, চন্দ্র রাশি আর তাদের অধিপতি। এই ক্যালকুলেটর সেগুলো আমাদের ৩৬ গুণ মিলান ক্যালকুলেটরের একই সারণি থেকে পড়ে, তাই রাশি পোরুথম আর ভকূট সবসময় একমত হয়। যেখানে তামিল আর উত্তর ভারতীয় প্রথা সত্যিই আলাদা, সেখানে ফলাফল জানায় কোন নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে।

পাঁচটি রজ্জু আর তাদের নক্ষত্র

পাদ (পা) রজ্জু: অশ্বিনী, অশ্লেষা, মঘা, জ্যেষ্ঠা, মূলা আর রেবতী। কটি (কোমর) রজ্জু: ভরণী, পুষ্যা, পূর্বফাল্গুনী, অনুরাধা, পূর্বাষাঢ়া আর উত্তরভাদ্রপদ। নাভি রজ্জু: কৃত্তিকা, পুনর্বসু, উত্তরফাল্গুনী, বিশাখা, উত্তরাষাঢ়া আর পূর্বভাদ্রপদ। কণ্ঠ (গলা) রজ্জু: রোহিণী, আর্দ্রা, হস্তা, স্বাতী, শ্রবণা আর শতভিষা। শিরো (মাথা) রজ্জু: মৃগশিরা, চিত্রা আর ধনিষ্ঠা।

পাত্রী আর পাত্রের নক্ষত্র একই দলে পড়লে রজ্জু দোষ। মাথার রজ্জুতে মাত্র তিনটি নক্ষত্র, তাই তাতে মেলা সবচেয়ে বিরল, আর পঞ্জিকা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এটাকেই।

FAQ

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১০টি পোরুথম কী কী?

দিন, গণ, মাহেন্দ্র, স্ত্রী দীর্ঘ, যোনি, রাশি, রাশি অধিপতি, বশ্য, রজ্জু আর বেধ।

সবচেয়ে জরুরি পোরুথম কোনটি?

রজ্জু। একে নিষেধক ধরা হয়, বেধকেও। বাকিগুলোর মধ্যে দিন, গণ, যোনি আর রাশির ওপর বেশিরভাগ পঞ্জিকা জোর দেয়।

পোরুথম কি পাত্রীর নক্ষত্র থেকে গোনা হয়?

হ্যাঁ। দিন, মাহেন্দ্র আর স্ত্রী দীর্ঘ পাত্রীর নক্ষত্র থেকে পাত্রের নক্ষত্র পর্যন্ত গোনা হয়, পাত্রীর নিজের নক্ষত্রকে ১ ধরে, তাই তথ্য দেওয়ার ক্রম জরুরি।

একই নক্ষত্র হলে কি বিয়ে করা যায়?

একই নক্ষত্রের রজ্জু সবসময় এক, তাই রজ্জু দোষ হয়। পাদ আলাদা হলে কিছু পঞ্জিকা নির্দিষ্ট কিছু নক্ষত্র মেনে নেয়; সেই তালিকা অঞ্চলভেদে আলাদা, তাই পারিবারিক জ্যোতিষীর পরামর্শ নিন।

বিয়ের জন্য কতগুলো পোরুথম লাগে?

বেশিরভাগ পরিবার দশটির মধ্যে অন্তত পাঁচটি চায়, সঙ্গে রজ্জু আর বেধ দুটিই পরিষ্কার।

জন্ম সময় কি লাগবে?

না, যদি জাতকম থেকে নক্ষত্র আর পাদ জানা থাকে। না হলে জন্মের বিবরণ দিন, ক্যালকুলেটর সেগুলো বের করে নেবে।

কোন নক্ষত্রগুলো পরস্পর বেধে আছে?

অশ্বিনী ও জ্যেষ্ঠা, ভরণী ও অনুরাধা, কৃত্তিকা ও বিশাখা, রোহিণী ও স্বাতী, আর্দ্রা ও শ্রবণা, পুনর্বসু ও উত্তরাষাঢ়া, পুষ্যা ও পূর্বাষাঢ়া, অশ্লেষা ও মূলা, মঘা ও রেবতী, পূর্বফাল্গুনী ও উত্তরভাদ্রপদ, উত্তরফাল্গুনী ও পূর্বভাদ্রপদ, হস্তা ও শতভিষা। মৃগশিরা, চিত্রা আর ধনিষ্ঠা তিনটিই পরস্পর বেধে।